মোঃ হুমায়ূন রহমান বাপ্পী: মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেলের অবহেলাপূর্ণ আচরণে সিএনজি চালিত টমটম গাড়ি ও ব্যাটারি চালিত রিকশা চালকদের কাছে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত শ্রেণীর যাত্রীরা জিম্মি! ডিসি পাভেল মৌলভীবাজারে যোগদানের পর থেকে ও গত রমজান মাস থেকে জেলা শহর এবং শহর সংলগ্ন এলাকায় চলাচলরত সিএনজি চালিত টমটম গাড়ি চালক, ব্যাটারি ও প্যাডেল চালিত রিকশা চালকরা যাত্রীদের কাছ থেকে বাড়তি ভাড়া আদায় করছে।
এই বিষয়ে এ প্রতিবেদক একাধিকবার মৌলভীবাজার পৌর কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে ও ডিসি তৌহিদুজ্জামান পাভেল কে অবহিত করলেও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেয়া হয়নি! দায়িত্বরত কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় নিত্যদিনের জরুরী প্রয়োজনে শহরের বিভিন্ন স্থানে দিনে – রাতে যাতায়াতকারী টমটম গাড়ি আরোহী ও রিকশা যাত্রীদের কে চালকরা জিম্মি করে অবৈধভাবে কয়েকগুণ বেশি ভাড়া আদায় করে আসছে! অর্থলোভী সিএনজি চালিত টমটম গাড়ি চালকরা তাদের হালকা ধরনের গাড়িতে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত শ্রেণীর ৮ জন যাত্রী বহন করে স্বল্প দূরত্বের ব্যবধানে অর্থাৎ মাত্র কয়েক শত হাত দূরে পৌঁছে দিয়ে দিনে জনপ্রতি ১০ থেকে ২০ টাকা এবং রাতে জনপ্রতি ৩০ থেকে ৫০ টাকা ভাড়া আদায় করে আসছে! এছাড়াও শহরের ভেতরে ও শহর সংলগ্ন এলাকায় বসবাসকারী মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত শ্রেণীর লোকজন নিত্য প্রয়োজনে দিনে ৮ থেকে ১০ বার শহরের ভেতরে ও বাইরে চলাচল করতে গিয়ে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে দ্বিগুণ – ৩ গুণ বাড়তি ভাড়া দিতে গিয়ে আর্থিক সংকটে। তবুও মৌলভীবাজার পৌর কর্তৃপক্ষ ও জেলা প্রশাসকের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অবহেলা পূর্ণ আচরণ প্রকাশিত!
বিগত ২৩ নভেম্বর ২০২৫ খ্রি. বিকেলে এ প্রতিবেদক বর্তমান ডিসি তৌহিদুজ্জামান পাভেল কে টমটম ও ব্যাটারি চালিত রিকশা চালকদের বেপরোয়া ভাড়া আদায়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়ে এবং জেলা শহরে মৌলভীবাজার পৌরসভা কর্তৃক নির্ধারিত ভাড়া তালিকা টানানোর দাবি জানানোর পরেও ডিসি কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত শ্রেণীর মৌলভীবাজারবাসী আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। মৌলভীবাজার শহরে ব্যাটারি চালিত রিকশা ও প্যাডেল চালিত রিকশা চালকরা যাত্রীদের কে দীর্ঘ দিন ধরে মানসিকভাবে নির্যাতন করছেন! যাত্রীরা রিকশায় আরোহণ করলেই কয়েকগুণ বেশি ভাড়া দিতে হয়। চৌমুহনা থেকে স্বল্প দূরত্বের ডিসি অফিস ও কোর্ট এলাকায় পৌঁছালে দিনের বেলায় অনেক রিকশা চালক ৪০ টাকা ভাড়া দাবি করে ও সন্ধ্যায় এবং রাতে আরও বেশি ভাড়া দাবি করে! দিনের বেলায় ঢাকা বাসস্ট্যান্ড থেকে চৌমুহনায় অথবা ডিসি অফিস সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছে রিকশা চালকরা ৬০ – ৭০ টাকা ভাড়া দাবি করে চিৎকার চেঁচামেচি শুরু করে এবং রাতে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা ভাড়া আদায় করছে! মান-সম্মান রক্ষার্থে বাধ্য হয়ে যাত্রীরা রিকশা চালকদের কাছে জিম্মি!

মৌলভীবাজারে ডিসির নেপথ্যের সমর্থনে বেপরোয়া সিএনজি চালিত টমটম ও ব্যাটারি চালিত রিকশা
চৌমুহনা থেকে বেড়িরপার ও স্বল্প দূরত্বের এম. সাইফুর রহমান সড়কের যেকোনো স্থানে অথবা কুসুমবাগ পয়েন্ট পর্যন্ত সড়কে রিকশা চালকরা দিনের বেলায় ৪০ – ৫০ টাকা ভাড়া নিচ্ছে ও রাতে দ্বিগুণ ভাড়া আদায় করছে। চাঁদনীঘাট বাসস্ট্যান্ড থেকে সদর উপজেলা পরিষদের সম্মুখে ও সংলগ্ন জেলা এলজিইডি কার্যালয়ের সামনে নামিয়ে রিকশা চালকরা ৮০ থেকে ১০০ টাকা ভাড়া আদায় করে।

মৌলভীবাজারে ডিসির নেপথ্যের সমর্থনে বেপরোয়া সিএনজি চালিত টমটম ও ব্যাটারি চালিত রিকশা
হঠাৎ করে মৌলভীবাজার শহরে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত শ্রেণীর চলাচলের একমাত্র বাহন সিএনজি চালিত টমটম গাড়ি ও ব্যাটারি এবং প্যাডেল চালিত রিকশা ভাড়া দ্বিগুণ ও ৩ গুণ বৃদ্ধির কারন জিজ্ঞেস করায় রিকশা ও টমটম চালকরা জানান “পৌরসভা থেকে আমাদের ভাড়া বাড়ানো হয়েছে, তাই আমরা যা ভাড়া চাইব তা দিতে হবে”! মৌলভীবাজার পৌরসভা নির্ধারিত ভাড়া তালিকা দেখাতে বললে টমটম চালকরা বলে “আমাদের স্ট্যান্ড নির্ধারণ করেছে”।

মৌলভীবাজারে ডিসির নেপথ্যের সমর্থনে বেপরোয়া সিএনজি চালিত টমটম ও ব্যাটারি চালিত রিকশা
উল্লেখ্য যে, ২০২৪ খ্রি. শহরের এম. সাইফুর রহমান সড়কে সিএনজি চালিত অটোরিকশা চালকরা জনপ্রতি নির্ধারিত ভাড়া ৫ টাকার পরিবর্তে ১০ টাকা আদায় করায়, তৎকালীন কর্তৃপক্ষ সিএনজি অটোরিকশা সরিয়ে দিয়ে ৫ টাকা ভাড়া নির্ধারণ করে টমটম গাড়িতে যাত্রী পরিবহনের অনুমতি দিয়েছিলেন।
গত ২ এপ্রিল বিকেলে মৌলভীবাজার পৌর প্রশাসক ও স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক রুবেল মাহমুদ এ প্রতিবেদককে বলেন “মৌলভীবাজার পৌর প্রশাসক হিসেবে এখানে আমার কিছুই করার ক্ষমতা নেই। পৌরসভার কোন ম্যাজিস্ট্রেট নেই। এখানে ডিসি স্যার যা সিদ্ধান্ত নেবেন তাই বাস্তবায়ন হবে”। মৌলভীবাজারের ডিসি তৌহিদুজ্জামান পাভেল কে একাধিকবার মুঠোফোনে কল দিয়ে না পেয়ে অতঃপর গত ২ এপ্রিল ডিসি অফিসে পৌঁছে পূর্বের ন্যায় দেখা করতে ব্যর্থ হয়ে ফিরে এসে ঐ দিন (২ এপ্রিল) বিকেলে ডিসি কে ফোন দিলে ডিসি তৌহিদুজ্জামান পাভেল ফোনের অপর প্রান্তে উত্তেজিত আচরণ করে এ প্রতিবেদককে বলেন “ঢাকা থেকে সিলেটের আকাশপথে দূরত্ব কতটুকু?

মৌলভীবাজারে ডিসির নেপথ্যের সমর্থনে বেপরোয়া সিএনজি চালিত টমটম ও ব্যাটারি চালিত রিকশা
ঢাকা – সিলেট ৩ হাজার টাকার বিমান ভাড়া ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা ভাড়া নিচ্ছে। আপনি বলুন দূরত্ব কতটুকু? ওরা গরীব রিকশাওয়ালা কয় টাকা বেশি নিচ্ছে? আপনি টমটমে চড়বেন না – রিকশায় চড়বেন না! জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে ওরা তো ভাড়া বাড়াবেই”!!
ডিসি পাভেল আরও বলেন “যেখানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসের ভেতরে রিকসা ভাড়া নির্ধারণ করতে পারেনি! সেখানে আপনি বলছেন রিকসা ভাড়া নির্ধারণ করতে?” এ প্রতিবেদক ডিসিকে স্মরণ করিয়ে দেন যে ” ৯ জন আরোহী নিয়ে সিএনজি চালিত টমটম গাড়িতে চড়ে ডিসি অফিস থেকে স্বল্প দূরত্বের চৌমুহনা যেতে জনপ্রতি ৫ টাকা ভাড়ার জায়গায় কিছু দিন ধরে ১০ টাকা আদায় হচ্ছে”। মৌলভীবাজার পৌর এলাকায় সিএনজি চালিত টমটম গুলো শহরের বিভিন্ন রুটে দ্বিগুণ ভাড়া আদায় করছে কিন্তু প্রশাসন ব্যবস্থা নিচ্ছে না। তখন আরও উত্তেজিত হয়ে ডিসি তৌহিদুজ্জামান পাভেল বলেন “এখন আপনি (প্রতিবেদক) প্রশ্ন করতে পারেন যে, রিকশাওয়ালা কেন ভাড়া বাড়াবে”? জ্বালানি তেলের দাম বাড়েনি একথা এই প্রতিবেদক বললে ডিসি তৌহিদুজ্জামান পাভেল বলেন “এই বিষয়ে আমি আপনার সাথে তর্ক করতে চাই না”, একথা বলেই ৪ মিনিট ২৮ সেকেন্ড পরে ডিসি পাভেল ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন।