সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১০:৩৬ পূর্বাহ্ন
Headline
সুনামগঞ্জে ‘দৈনিক সুনামগঞ্জের সময়’-এর মাল্টিমিডিয়া উদ্বোধন ও প্রতিনিধি সম্মেলন জুড়ীতে মোবাইল কোর্ট এর অভিযানে ৫৫০ কেজি পোনা মাছ জব্দ ও অর্থদণ্ড ৬০ হাজার টাকা আদায় জুড়ীতে বনভূমি দখল করে ফিসারী – প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি সিলেট বিভাগের সেরা মৎস্য কর্মকর্তা জুড়ীর মনিরুজ্জামান শহীদ জিয়া স্মৃতি সংসদের ৪৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত মৌলভীবাজারে ডিসির নেপথ্যের সমর্থনে বেপরোয়া সিএনজি চালিত টমটম ও ব্যাটারি চালিত রিকশা বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মৌলভীবাজার জেলা শাখার প্রতিবাদ মৌলভীবাজার-১ (জুড়ী – বড়লেখা) সংসদীয় আসনে সংসদ সদস্য প্রার্থী শরিফুল ইসলামের নির্বাচনী প্রচারণা ও পথসভা খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নিতে ঢাকায় মৌলভীবাজারের বিএনপি শেওয়াইজুড়ী মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির তহবিল ও জলমহালের কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সাংবাদিক সম্মেলন

শ্রীমঙ্গলে আব্দুস শহীদ কলেজের কার্যক্রমে গ্রন্থাগার ধ্বংস

Reporter Name / ৩০ Time View
Update : শনিবার, ১ মার্চ, ২০২৫, ১২:২২ অপরাহ্ন

মোঃ কাওছার ইকবাল, শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) থেকে: মূল ভবনের চারদিকের দেয়াল অনেকটাই জরাজীর্ণ। ঘূর্ণিঝড়ে টিনের চাল উড়িয়ে নিয়েছে। বাকী টিনসহ কাঠের ফ্রেম, গ্রীল, দরজা জানালা আশপাশের নিশি চোরেরা ধারাবাহিক ভাবে খুলে নিয়েছে। মাটিতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে ধ্বংসের আলামত। দরজা ও জানালার কোনো অস্তিত্ব নেই। বাউন্ডারি দেয়ালগুলোর অধিকাংশই ধসে পড়েছে। নেই কাঠের তৈরি আলমারি, চেয়ার-টেবিল ও বইয়ের কোনো স্মৃতিচিহ্নও। এ যেন দুষ্ট কোন চক্রের পরিকল্পিত ধংশযজ্ঞ।

এ চিত্র মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার কলেজ রোডের পাবলিক লাইব্রেরির। অথচ একসময় এই লাইব্রেরিটি ছিল সব বয়সি মানুষের কাছে জ্ঞান অর্জনের কেন্দ্র। ছুটির দিন ব্যতীত প্রতিদিন বিকালে লাইব্রেরিটিতে ভিড় জমাতেন বইপ্রেমীরা।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ২০১২ সালে গ্রন্থাগারটি বন্ধ করে গ্রন্থাগারের টিনশেড ভবনে শ্রেণি ও প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু করে উপাধ্যক্ষ আব্দুস শহীদ কলেজ। দীর্ঘ ৮ বছর তাদের দখলে ছিল গ্রন্থাগারের জমি ও টিনশেড ভবনটি। ২০২০ সালে অত্যন্ত জরাজীর্ণ অবস্থায় এটি ফেলে কলেজটি উপজেলার মতিগঞ্জ এলাকায় নিজস্ব ক্যাম্পাসে চলে যায়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ১৯৮৩ সালের ২২ জুলাই শ্রীমঙ্গল পৌরসভা কার্যালয়ের একটি টিনশেড কক্ষে ‘শ্রীমঙ্গল গণগ্রন্থাগার’ নামে একটি গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠা হয়। ১৯৮৪ সালে শ্রীমঙ্গল শহরের কলেজ রোডে মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসকের খাস খতিয়ানভুক্ত দশমিক ১৫ একর জমি গ্রন্থাগারের জন্য উপজেলা প্রশাসনের নামে বন্দোবস্ত দেওয়ার পরে সেখানে টিনশেড ভবন নির্মাণ করা হয়। পরে ১৯৯৩ সালের টিনশেড ভবনসহ জমি পৌরসভার কাছে লিখিতভাবে হস্তান্তর করে উপজেলা প্রশাসন। সেটাকে ‘শ্রীমঙ্গল পৌরসভা অডিটোরিয়াম কাম লাইব্রেরি’ নামকরণ করা হয়।
২০১২ সালে মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মো. আব্দুস শহীদের নামে প্রতিষ্ঠিত হয় ‘উপাধ্যক্ষ আব্দুস শহীদ কলেজ’ (বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এটির নামকরণ করেছে মতিগঞ্জ কলেজ)।
ওই কলেজটির প্রশাসনিক ও শ্রেণি কার্যক্রম শুরু হয় ‘শ্রীমঙ্গল পৌরসভা অডিটোরিয়াম কাম লাইব্রেরি’র টিনশেড ভবনে। ২০২০ সাল পর্যন্ত ৮ বছর তারা দখল করে রাখে সেটি। ফলে পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায় শ্রীমঙ্গলের বইপ্রেমীদের প্রাণের গ্রন্থাগারটি। ২০২০ সালে উপজেলার মতিগঞ্জ এলাকায় নিজস্ব ক্যাম্পাসে স্থানান্তর হয়।
শ্রীমঙ্গল পৌরসভা অডিটোরিয়াম কাম লাইব্রেরি পৌরসভার কাছে বুঝিয়ে দেয়নি বলে অভিযোগ পৌর কর্তৃপক্ষের। টিনশেড ভবনটি ফেলে রেখে যায় জরাজীর্ণ ও তালাবদ্ধ অবস্থায়। কলেজের প্রশাসনিক ও শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনার সময়ে ওই টিনশেড ভবনের কোনো ধরনের সংস্কারকাজও করেনি তারা। উপরন্ত পেছনের বাউন্ডারি দেওয়াল ভেঙে পার্শ্ববর্তী শিশুপার্কের জমিতে বর্ধিত শ্রেণিকক্ষ করে কলেজ কর্তৃপক্ষ। ২০২৪ সালের এপ্রিলে প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড়ে টিনের চালা উড়িয়ে নিয়ে যায়। ভেঙে যায় পুরো বাউন্ডারি দেয়াল। পরে ভবনের দরজা-জানালা, লোহার এঙ্গেল ইত্যাদি খুলে নিয়ে যায় চোর বা চোরচক্র।

পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘কীভাবে উপাধ্যক্ষ আব্দুস শহীদ কলেজ লাইব্রেরি ভবনে তাদের কার্যক্রম চালিয়েছে এটি জানা নেই। এ ছাড়া ২০২০ সালে ভবনটি ছেড়ে যাওয়ার সময় চাবি ও অন্য মালামাল বুঝিয়ে দিয়ে যায়নি। তবে বর্তমান পৌর প্রশাসক ও ইউএনও ইসলাম উদ্দিন গ্রন্থাগারটি সংস্কার করে চালুর বিষয়ে অত্যন্ত আন্তরিক।’

কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ পিয়ালী ভৌমিক বলেন, ‘কলেজের প্রতিষ্ঠাকালীন অধ্যক্ষ ছিলেন সাইয়্যিদ মুজিবুর রহমান স্যার। যতটুকু জানতে পেরেছি সে সময়ে পৌর কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে অনুমতি নিয়েই গ্রন্থাগারের টিনশেড ভবনে কার্যক্রম শুরু করা হয়েছিল। যদিও লিখিত কাগজপত্র দেখিও নাই, পাইও নাই। গ্রন্থাগারটি একটি পতিত জমির মতো ছিল। খুব খারাপ ছিল টিনশেড ভবনের অবস্থা। আমরা গ্রন্থাগারের বই, কাঠের আলমারিসহ আসবাবপত্র কিছুই আনিনি।
ইউএনও ইসলাম উদ্দিন বলেন, এখানে আধুনিক গণগ্রন্থাগার স্থাপনের চিন্তা রয়েছে। সেই লক্ষ্যে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Theme Created By hostdsf.com